আজ বৃহস্পতিবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যালারিতে সোসিও-ইকোনোমিক ডেভোলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজ্যিঅ্যাবিলিটি রিহ্যাবিলিয়েটেশন অর্গানাইজেশন (সিড্রো) আয়োজিত শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের ঈদ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন। ছবি: জনসংযোগ শাখা, যবিপ্রবি

আপনার সন্তানকে অবহেলা করবেন না: যবিপ্রবি উপাচার্য

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তানের বাবা-মায়েদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনার সন্তানকে অবহেলা করবেন না। বাংলাদেশ সরকার আপনাদের সাথে আছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আপনাদের সাথে আছেআপনারা নিজেদের পশ্চাতপদ মানুষ মনে করবেন না।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে যবিপ্রবির গ্যালারিতে সোসিও-ইকোনোমিক ডেভোলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজ্যিঅ্যাবিলিটি রিহ্যাবিলিয়েটেশন অর্গানাইজেশন (সিড্রো) আয়োজিত শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের ঈদ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ৪৫ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুকে ঈদের জামা-প্যান্ট বিতরণ করা হয়। একইসঙ্গে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সবাইকে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়।
অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, আপনার সন্তান হয়তো কোনো একটি কাজ এমন নিপুণভাবে করতে পারে যে, একজন সুস্থ মানুষ সেটা করতে পারে না। বিশে^র অন্যান্য জায়গায় এই ধরনের শিশুদের সেই কাজটি দিয়ে উদ্বুদ্ধ করে থাকে। এতে তার জীবন আরও সামনে এগুনোর পথ সুগম হয়।
অধ্যাপক ড. আনোয়ার বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী কেউ যদি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চায় তাহলে ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম নম্বর পেলেই আমাদের যে এক শতাংশ কোটা আছে তার মাধ্যমে তাকে আমরা ভর্তি করে নিতে পারবো। আবার শারীরিক প্রতিবন্ধী কেউ যদি কিছু একটা কাজ করতে পারে এবং জানে, সেই ধরনের প্রতিবন্ধী থাকলে আমরা বিশেষ কোটায় তাদের চাকরিতে নিয়োগ দিয়ে থাকি।
অভিভাবকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আপনারা আপনাদের সন্তানকে একটু সাহায্য করুন। তাদের কর্মক্ষম করে গড়ে তুলুন। আপনার সন্তানকে অবহেলা করবেন না। সে হয়তো কোনো একটি কাজ অত্যন্ত সুন্দরভাবে করতে পারে, যেটা আপনি নিজেই পারেন না। হয়তো দেখবেন ওই সন্তানটি ভালো ছবি আঁকতে পারে, আপনি পারেন না। সে ভালো গান গাইতে পারে, আপনি পারেন না।
অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার শারীরিক প্রতিবন্ধীদের কিভাবে সমাজের মূল¯্রােতে আনা যায়, এ জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এবং তাঁরই সুযোগ্য কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এটা নিয়ে শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশে^ কাজ করছেন।
শারীরিক প্রতিবন্ধী বাবা-মায়েদের উদ্দেশ্যে অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে মেডিকেল সেন্টার রয়েছে। কোনো বিশেষ শিশুর যদি চিকিৎসা সেবার প্রয়োজন হয়, তাহলে তাকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। আমাদের একজন ভালো ফিজিওথেরাপিস্ট রয়েছেন। যদি কোনো বিশেষ শিশুর ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন হয়, তাহলে তাঁকেও বিনামূল্যে ফিজিওথেরাপি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
সিড্রোর নির্বাহী পরিচালক ও যবিপ্রবির পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের প্রভাষক শাহিন শাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিড্রোর উপদেষ্টা ও শেখ হাসিনা ছাত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়রা আজমিরা এরিন। উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো: আনিছুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ড. মো: নাজমুল হাসান, প্রক্টর অধ্যাপক শেখ মিজানুর রহমান, শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো: ইকবাল কবীর জাহিদ, সিড্রোর যবিপ্রবি শাখার সভাপতি মো: আখলাকুর রহমান, প্রচার সম্পাদক ফাহাদ ফারদিন প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যবিপ্রবির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস নোভা ও ঋতুপর্ণা কুন্ডু বৃষ্টি।

 

বার্তা প্রেরক

মো: আব্দুর রশিদ
জনসংযোগ কর্মকর্তা
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,
যশোর-৭৪০৮।