বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদৎ বর্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে যশোর শহরস্থ বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: জনসংযোগ শাখা, যবিপ্রবি

 

বঙ্গবন্ধুকে হেডে নয়, হার্টে ধারণ করতে হবে: যবিপ্রবি ভিসি

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদৎ বর্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোক র‌্যালি পরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করে যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। ছবি: জনসংযোগ শাখা, যবিপ্রবি

(যশোর: ১৫ আগস্ট ২০১৮): যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হেড (মাথা) দিয়ে নয়, হার্ট (হৃদয়) দিয়ে ধারণ করতে হবে। হেড দিয়ে ধারণ করলে লোভ আসতে পারে। কিন্তু হৃদয় দিয়ে ধারণ করলে কখনো লোভ আসতে পারে না।’

আজ বুধবার সকালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোক র‌্যালি শেষে যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে দেখেছে তাঁর অন্তারাত্মা দিয়ে। তাই বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসতে হবে আত্মা দিয়ে, মাথা দিয়ে নয়। মাথা দিয়ে তারাই বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করে, যার টেন্ডার দরকার আছে, সমাজের সবকিছু খেয়ে ফেলবে এই চিন্তা আছে। যখনই মানুষ মাথা দিয়ে ভাবে তখন সে দুটো জিনিস ভাবে। আমি কিভাবে বাঁচব এবং আমি কিভাবে খাবো। আর যখন মানুষের কারও প্রতি অনুভূতি কাজ করে, ভালোবাসা কাজ করে তখন কখনোই আমি কিভাবে বাঁচব সেটা আসে না। আমি কিভাবে খাবো এ কথা আসে না। সুতরাং বঙ্গবন্ধুকে মাথা দিয়ে নয়, হৃদয় দিয়ে ধারণ করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের বঙ্গবন্ধুর এই আদর্শকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, আগামীতে যশোর তথা বাংলাদেশের সামনের দিকে যে অগ্রগতি হবে, সেই অগ্রগতির নেতৃত্ব নিতে হবে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে। আর অগ্রগতির এ নেতৃত্ব নিতে হলে নিজেদের প্রমাণ করতে আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করি।

ড. মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে দেশ ও জাতির জন্য একজন কান্ডারি আসেন। কথা এবং কাজ সব কিছু দিয়ে তিনি সত্যিকার অর্থেই প্রমাণ করেন, তিনি অন্যের চেয়ে আলাদা। বঙ্গবন্ধু ছিলেন সত্যিকার অর্থে অন্যের চেয়ে আলাদা। তিনি অন্যের চেয়ে আলাদা হয়েছিলেন বলেই সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন, বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন।

যবিপ্রবির শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো: আনিছুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, দপ্তর প্রধান, চেয়ারম্যানগণ, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

উক্ত আলোচনাসভা পরিচালনা করেন যবিপ্রবির শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক ড. মো: নাজমুল হাসান I

যবিপ্রবির ১৫ আগস্টের কর্মসূচি শুরু হয় সূর্যোদয়ক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে যশোর শহরস্থ বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। একে একে শিক্ষক সমিতি, কর্মচারী সমিতি, শহীদ মসিয়ূর রহমান হল ও শেখ হাসিনা ছাত্রী হল, প্রক্টোরিয়াল বডি, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, যবিপ্রবি শাখা জাতির পিতার ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। অনুরূপভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকেও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে যবিপ্রবি উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সংগঠন পুস্পস্তবক অর্পন করে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৫ আগস্টে নিহত সকলের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত আয়োজন করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্বাবদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. আকরামুল ইসলাম।

 

 

 

বার্তা প্রেরক
মো: আব্দুর রশিদ
জনসংযোগ কর্মকর্তা
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,
যশোর-৭৪০৮।