যবিপ্রবির হেল্থ ক্যাম্পে ২৪০০ রোগীর চিকিৎসা মানুষের মুখে হাসি ফুটলে ভালো লাগে: ডা. রশীদ

 

           

বঙ্গবন্ধুর ৪৩তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) আজ বৃহস্পতিবার সকালে একটি ফ্রি মেডিকেল হেল্থ ক্যাম্পের আয়োজন করে। ছবি: জনসংযোগ শাখা, যবিপ্রবি

 

(যশোর, ৯ আগস্ট, ২০১৮): ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো: আব্দুর রশীদ বলেছেন, চিকিৎসার মাধ্যমে যখন মানুষের মুখে হাসি ফোঁটে তখন ভীষণ লাগে। আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে মানুষ উপকৃত হয়। আমরা সেটাই করে যাচ্ছি।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সমাজের অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) আজ বৃহস্পতিবার সকালে একটি ফ্রি মেডিকেল হেল্থ ক্যাম্প আয়োজন করা হয়। এই হেল্থ ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মো: আব্দুর রশীদ এসব কথা বলেন।
সকাল ১০ থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে যবিপ্রবির মেডিকেল সেন্টারে ফ্রি মেডিকেল হেল্থ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩৮ জন বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রায় ২ হাজার ৪০০ রোগী দেখেন।
ডা. মো: আব্দুর রশীদ বলেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একজন ডায়নামিক উপাচার্য পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে হেল্থ ক্যাম্পের মতো আয়োজন সত্যিই অনেক কার্যকর ও চমৎকার হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিতেশ চন্দ্র বাছার বলেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ ফার্মেসি বিভাগগুলো গড়ে উঠেছে মূলত ওষুধ শিল্পকে লক্ষ্য করে। এখানে ক্লিনিককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। কিন্তু যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ওষুধ শিল্প ও ক্লিনিক লক্ষ্য করেই শিক্ষা প্রদান করছে। যা প্রশংসার দাবি রাখে।
সভাপতির বক্তব্যে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, মেডিকেল হেল্থ ক্যাম্পের মতো আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়কে মানুষের কাছে নিয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও যে সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে, এ ধরণের কর্মকাণ্ড এর মাধ্যমে তারা সেটা বুঝতে পারবে। মেডিকেল ক্যাম্পের মতো আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সহায়ক’-এর অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। এ ধরণের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়তে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর ৯ অথবা ১০ আগস্ট ফ্রি মেডিকেল হেল্থ ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন যশোরের পুলিশ সুপার মো: আনিসুর রহমান বলেন, সিভিল সার্জন দিলীপ কুমার রায়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো: আনিছুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, দপ্তর প্রধানগণ, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যবিপ্রবির প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. দীপক কুমার মন্ডল ।
যবিপ্রবি আয়োজিত মেডিকেল হেল্থ ক্যাম্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের প্রায় দুই হাজার ৪০০ মানুষ চিকিৎসা সেবা গ্রহণের জন্য আসেন। সব রোগীর পরীক্ষা ফ্রি সম্পন্ন করা হয় এবং প্রাপ্যতা সাপেক্ষে বিনামূল্যে যবিপ্রবির ফার্মেসি বিভাগ মডেল ফার্মেসির আদলে ঔষধ সরবরাহ করা হয়। রোগীদের স্বাস্থ্যসেবায় ছিলেন রয়েছেন ৩৮ জনের অধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
যবিপ্রবির আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই মেডিকেল হেল্থ ক্যাম্পের সহযোগিতায় ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সহায়ক’ এবং বিএনসিসি।

 

বার্তা প্রেরক

মো: আব্দুর রশিদ
জনসংযোগ কর্মকর্তা
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,
যশোর-৭৪০৮।