যবিপ্রবিতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন ; হারানো মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে হবে: নারায়ণ চন্দ্র চন্দ

 

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৮ উপলক্ষে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

 

(যশোর, ২১ জুলাই ২০১৮): মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। আমাদের হারানো মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে হবে। রাজনৈতিক আদর্শ থাকবে কিন্তু সংঘাত থাকবে না।
আজ রোববার সকালে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৮ উপলক্ষে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগ আয়োজিত আলোচনা সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এসব কথা বলেন। এর আগে মৎস্য সপ্তাহ-২০১৮ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রা বিশ^বিদ্যালয়ের গবেষণা পুকুরে পোনা অবমুক্ত করেন মন্ত্রী।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘যারা মুরব্বি তাদের সম্মান করতে হবে। আমাদের এখন মূল্যবোধের অবক্ষয় এমন পর্যায়ে গেছে যে, মুরব্বিদের আর শ্রদ্ধা করি না। আমাদের মূল্যবোধকে ফিরিয়ে আনতে হবে। জাতি এগোচ্ছে কিন্তু কোথায় জানি আমরা পেছাচ্ছি। এই পিছনে যাওয়াকে আমাদের মেরামত করতে হবে। তাহলে আমরা আরও দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবো। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই এগিয়ে যাওয়ার ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে আমাদের মূল্যবোধকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে ছাত্ররাই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।’

আজ রোববার সকালে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৮ উপলক্ষে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। ছবি: জনসংযোগ শাখা, যবিপ্রবি।

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে নারায়ণ চন্দ্র চন্দের দেখা হওয়া মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন মানবতাবাদি মানুষ। মানুষের কল্যাণে তিনি ছিলেন দরদি। ক্ষুদা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই ছিল বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য। কিন্তু সেটা সময়ের অভাবে তিনি পূরণ করে যেতে পারেননি। এখন সেটা করিয়ে দেখাছেন তাঁর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।’
বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার কথা উল্লেখ করে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলতে শুধু ভাতকে বোঝায় না। যখন আমরা ভাত-মাছ-ডিম-দুধ-তরু-তরকারি-শাক-সবজি-ফল-ফলাদি প্রয়োজন অনুসারে সবই পাবো, তখনই আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবো। তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে আমরা চাউল অর্থাৎ ভাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। আমরা মাছেও এ বছর স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছি। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশে^ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। আর মৎস্য চাষ এবং মৎস্য আহরণ দুটোকে গড় করলে বিশ্বে বাংলাদেশ এখন চতুর্থ অবস্থানে। দেশের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেছি, মনে হয় পুরো বাংলাদেশই মৎস্য খামার। চেষ্টা করলে সবদিকে আমরা প্রথম স্থান অধিকার করতে পারি।
মৎস্য সম্পদের নানা রোগবালাইতে আক্রান্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘মৎস্য সম্পদের উৎপাদন বাড়ানো ও রোগ-বালাই প্রতিরোধে গবেষণার বিকল্প নেই। চাষযোগ্য পাানি দূষণ, নানা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ায় আক্রমণ করছে। এসব প্রতিরোধে চাষী ভাইদের একেক জন বিজ্ঞানী হতে হবে।’
যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে এখনো ট্রেডিশনাল উপায়ে মৎস্য চাষ হয়। চাষীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান একেবারে নগন্য। সুতরাং আমাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ডোর টু ডোর দিতে হবে। এক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসবেন বলে বিশ্বাস করি।
সভাপতির বক্তব্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন বলেছেন, যশোর অঞ্চলের মৎস্য চাষকে এগিয়ে নিতে বিশ^বিদ্যালয়ে একটি অত্যাধুনিক হ্যচারি নির্মাণ করা হয়েছে। চাষী পর্যায়ের মানুষেরা যেন এর সুবিধাভোগী হয়, সেজন্য আমরা মৎস্য চাষীদেরও আমাদের ব্যবহারিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করছি।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন যবিপ্রবির ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো: আনিছুর রহমান, যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো: শফিকুর রহমান, যবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস । আলোচনা সভা পরিচালনা করেন শেখ হাসিনা ছাত্রী হলের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়রা আজমিরা এরিন।
আলোচনা সভায় জেলা মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে সফল চাষীদের ক্রেস্ট ও সনদ দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন প্রধান অতিথি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।

 

 

বার্তা প্রেরক

মো: আব্দুর রশিদ
জনসংযোগ কর্মকর্তা
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,
যশোর-৭৪০৮।