যবিপ্রবির কতিপয় শিক্ষক ও মাননীয় উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রকাশিত বানোয়াট ও ভিত্তিহীন  সংবাদের প্রতিবাদ

 

গত ২৫ জুন ২০১৮ খ্রি. তারিখে দৈনিক নওয়াপাড়া একটি আঞ্চলিক পত্রিকায় ও ওয়াননিউজবিডি ডটকম নামের অনলাইনে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন, শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট মহোদয়সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘যবিপ্রবির ভিসির বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে’ শীর্ষক একটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন সংবাদ ছাপানো হয়েছে।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ড. মোঃ ইকবাল কবীর জাহিদ সম্পর্কে বলা হয়েছে ”ভিসি ড. আনোয়ার হোসেন তার ছাত্র ইকবাল কবির জাহিদকে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান, ডীন এবং প্রভোস্টসহ বিভিন্ন সময়ে গঠিত কমিটির প্রধান করা হয়।”

কিন্তু আমরা সবাই জানি যে, তিনি তাঁর যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী বিগত উপাচার্যের সময়ে চেয়ারম্যান, ডিন এবং প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ পান। বর্তমান উপাচার্য তাঁকে কোন নতুন দায়িত্ব দেননি; বরং মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় তাঁকে ডিনশিপ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

 

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে-…প্রভোস্ট জাহিদ বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় হলের সাধারণ ছাত্রদের ল্যাপটপ, মোবাইল ও নগদ টাকা পয়সাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য জিনিসপত্র লুট করান বলেও অভিযোগ রয়েছে। আর এসব করেন তিনি ড. আনোয়ার হোসেনের নির্দেশে। আবার লুটপাটকারীদের নিরাপদে হল ত্যাগে সাহায্য করেন প্রভোস্ট।

 

প্রকৃতপক্ষে গত ৫ অক্টোবর, ২০১৭ সালের ওই ঘটনাটি ছিল ছাত্রলীগের দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ কোন্দল যা সে সময় পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ঐ ঘটনায় জড়িত সাত ছাত্রকে বহিষ্কার করেছে। এখানে ভিসি বা প্রভোস্ট ইকবাল কবীর জাহিদের কোনো হাত ছিল না। আর ঘটনার সময় ভিসি ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন ইউজিসি আয়োজিত বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির একটি সভায় যোগদানের জন্য বগুড়াতে এবং প্রভোস্ট ড. মোঃ ইকবাল কবীর জাহিদ ছুটিতে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ফলে এ তথ্যেরও কোনো ভিত্তি নেই। উল্লেখ করা যেতে পারে, ঘটনার সময় বর্তমান প্রক্টর প্রফেসর ড. শেখ মিজানুর রহমান এবং বর্তমান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং তৎকালীন স্টুডেন্ট অ্যাডভাইজার ড. মোঃ নাজমুল হাসান ঘটনা স্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপাচার্য মহোদয় তাঁর ছাত্রী ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ড. সেলিনাকে শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

কিন্তু মূল বিষয় হলো, উপাচার্য মহোদয় শেখ হাসিনা হলের বিগত প্রভোস্ট ড. মোঃ আনিসুর রহমানের সুপারিশের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠ যোগ্যতম মহিলা শিক্ষিকাকে ছাত্রী হলের প্রভোস্টের দায়িত্ব দিয়েছেন।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে নিয়ম বহির্ভূতভাবে পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক ড. মাহফুজুর রহমানকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। কিন্তু সকলেই জানে,  ড. মাহফুজুর রহমানের পদোন্নতি বা নিয়োগ- কোনোটিই বর্তমান উপাচার্যের আমলে হয়নি। সুতরাং, ড. মাহফুজকে নিয়ে যে তথ্যটি লেখা হয়েছে সেটাও মিথ্যা।

 

কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের বিষয়ে প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে-….প্লানিং কমিটির সিদ্ধান্তের আগেই ভিসি ড. আনোয়ার হোসেন স্বপ্রণোদিত হয়ে ভাইভা কার্ড দিয়েছে এবং চলতি বছরের ৩০ জুন নিয়োগ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইসঙ্গে দুজন নিয়োগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে শিবির করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর যবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলম হোসেন ৯ বছর চাকরি করার পরও ভাইভা কার্ড না দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

 

কিন্তু আমরা সকলেই জানি যে, কার্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বিভাগের প্লানিং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে। প্রকৃতপক্ষে পিএইচডি ডিগ্রি ছাড়া সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেতে ১২ বছরের চাকরিকাল প্রয়োজন। জনাব আলম হোসেন মাত্র ৯ বছর চাকরি করলেও বিভাগীয় প্লানিং কমিটি সুপারিশ করায় তাকে কার্ড দেয়া হয়।

 

মাননীয় উপাচার্য মহোদয় সম্পর্কে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার যে সকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রশাসন তথা সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করেছে। প্রকৃতপক্ষে গবেষণা অনুরাগী উপচার্য ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি বিশ্বমানের বিদ্যাপীঠে রূপান্তরের জন্য গবেষণাসহ অ্যাকাডেমিক সকল বিষয়ে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যেখানে সমন্বিত পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা, অভিন্ন অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার বাস্তবায়ন, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি অনন্য উচ্চতায় নেয়ার ”েষ্টা করছেন সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে একটি স্বার্থান্বেষী মহল হীন চক্রান্তে লিপ্ত হয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে পিছিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করে সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

 

অতএব, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে ষড়যন্ত্রকারীরা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করেছে বলে শিক্ষক সমিতি বিশ্বাস করে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে এ ধরনের মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনকারী পত্রিকার সাংবাদিকসহ সম্পাদককে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও কূচক্রীমহলকে সনাক্ত করে তাদেরকে দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য সরকার এবং এর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি।

 

 

 

(সাধারণ সম্পাদক)                                                                                   (সভাপতি)

শিক্ষক সমিতি                                                                                          শিক্ষক সমিতি

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়                                                         যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

যশোর ৭৪০৮                                                                                           যশোর ৭৪০৮