যবিপ্রবির ভিসির বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছেশীর্ষক সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ

 

গত ২৫ জুন, ২০১৮ খ্রি. তারিখে আপনার স্বনামধন্য পত্রিকা দৈনিক নওয়াপাড়ার  প্রথম পৃষ্ঠায় ও ওয়াননিউজবিডি.কম  অনলাইনের হোমপেজে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন, শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট মহোদয়সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে যবিপ্রবির ভিসির বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছেশীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে, যে প্রতিবেদনটি ছাপানো হয়েছে, তার সঙ্গে সত্যের লেশমাত্র কোনো যোগাযোগ নেই। সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভুলেভরা, ভিত্তিহীন এবং মনগড়াভাবে সংবাদটি ছাপানো হয়েছে।

 

আপনার প্রতিবেদনের প্রথমে যে অভিযোগটি আনা হয়েছে, সেটি হলো- অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন যোগদানের পর থেকেই জামায়াত-বিএনপির লোকদেরকে বিভিন্ন পদে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। নিয়োগ দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।  অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন যোগদানের পরে শিক্ষক ছাড়া বাইরে থেকে দৈনিক মজুরিভিত্তক ৪ জন চালক এবং তিনজন লিফ্টম্যান যোগদান করেছেন। দৈনিক মজুরিভিত্তিতে নিয়োগ দিতে রিজেন্ট বোর্ড কিংবা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এরপরেও স্বচ্ছতার জন্য তিনি রিজেন্ট বোর্ডের অনুমতি নিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করে দেয়। তাদের সুপারিশের আলোকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বানোয়াট তথ্য কিভাবে ছাপানো হলো, তা আমাদের বোধগম্য নয়।

 

বায়ো-মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নিয়োগ নিয়ে যে অভিযোগের কথা লেখা হয়েছে, সেটাও ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত। মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনয়নকৃত দুজন বিশেষজ্ঞ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম রিজেন্ট বোর্ডের মনোনীত দুজন সদস্য নিয়োগ বোর্ডে থাকেন। এ ছাড়া বিভাগীয় চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন এবং পদাধিকার বলে উপাচার্য নিয়োগ বোর্ডের সদস্য। এই বিভাগটি ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করলেও বর্তমান উপাচার্য মহোদয় এসে দেখেন, এই বিভাগে কোনো শিক্ষক নেই। ওই সময়ে রাষ্ট্রপতির মনোনীত দুজন বিশেষজ্ঞ সদস্যও চূড়ান্ত হয়নি। ফলে রিজেন্ট বোর্ড মনোনীত দুজন সদস্য, ডিন, চেয়ানম্যান এবং উপাচার্যের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড নিয়োগ চূড়ান্ত করে। যাদের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক উপাচার্য এবং ইউজিসির একজন সদস্যও ছিলেন। ফলে এখানে আইনের কোনো ব্যতয় ঘটেনি। শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন রক্ষার্থে তিনি ত্বড়িত শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করেন। এটাই কী তার অপরাধ?

 

আপনার প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে-ভিসি ড. আনোয়ার প্লানিং কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিএনপি-জামাতের অযোগ্য লোকদের ভাইবা কার্ড দিয়ে দেয়। বিভাগীয় প্লানিং কমিটি কেবলমাত্র সুপারিশ করতে পারে, কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। দু-একটি বিভাগ অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে প্লানিং কমিটি সঠিকভাবে সুপারিশ করে না। অনেকক্ষেত্রে প্লানিং কমিটি করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথি ফেরত দেয় না। এ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে অনেক যোগ্য প্রার্থীদের ভাইভা কার্ড না দেওয়ার সুপারিশও করে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তখন যোগ্য প্রার্থীদের ভাইভা কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করে। আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভাইভা কার্ড দিলেও তার চাকরি চূড়ান্ত হয়ে যায় না। নিয়োগ কেবলমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন প্রথম সংবিধির ৬ (১) ও ৬ (২)  ধারা অনুসারে গঠিত নিয়োগবোর্ডের মাধ্যমে হয়ে থাকে। যার সদস্য সংখ্যা সাতজন।

 

আপনার প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, আইন অমান্য করে ভিসি ড. আনোয়ার হোসেন কিশোর মজুমদারকে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। ড. কিশোর মজুমদার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলেও তিনি জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সে দেশের সরকারি বৃত্তি নিয়ে পিএইচডি এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের বৃত্তি নিয়ে সে দেশে পোস্ট ডক্টরেট করেছেন। বর্তমানে চার্লস স্টুয়ার্ড ইউনিভার্সিটিতে অ্যাডজান্ট ফ্যাকাল্টি হিসেবে রয়েছেন। তিনি ইউএসটিসি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ বছরের উপরে শিক্ষকতা করেছেন। আন্তর্জতাকিভাবে তার ৪০টিরও ওপরে গবেষণাপত্র প্রকাশ হয়েছে। সাইটেশন রয়েছে ১১৩টি। এমন স্বনামধন্য ও মেধাবী ব্যক্তি যবিপ্রবিতে আসায় ফার্মেসি বিভাগ অনুপ্রাণিত এবং তাঁর যোগাদানে ফার্মেসি বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম ও গবেষণা বেগবান হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নিয়ম-নীতি লঙ্ঘণ করে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

 

কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের বিষয়ে প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে-….প্লানিং কমিটির সিদ্ধান্তের আগেই ভিসি ড. আনোয়ার হোসেন স্বপ্রণোদিত হয়ে ভাইভা কার্ড দিয়েছে এবং চলতি বছরের ৩০ জুন নিয়োগ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইসঙ্গে দুজন নিয়োগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে শিবির করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর যবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলম হোসেন ৯ বছর চাকরির করার পরও ভাইভা কার্ড না দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

মোঃ আলম হোসেনকে ভাইভা কার্ড দেওয়া হয়েছে। ফলে এ কথাটি সত্য নয়। আর কেউ নিয়োগপ্রাপ্ত না হলে তার রাজনৈতিক পরিচয় জানার সুযোগ বা এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেই। আর যে নিয়োগ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি, সেটা নিয়ে প্রতিবেদন করা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই প্রমাণিত হয়।

 

প্রতিবেদনের আরেক অংশ লেখা হয়েছে-যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও ভিসি ড. আনোয়ার হোসেন তার ব্যক্তিগত অযোগ্য ফিজিওথ্যারাপিষ্ট ও চালক নিয়োগ দিয়েছেন। বর্তমানে ভিসি স্যারের সময়ে পিইএসএস বিভাগে প্রভাষক হিসেবে ফিরোজ কবির নিয়োগ পান। তিনি এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ছিলেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বাংলাদেশে অর্থোপেডিকের জন্য বিখ্যাত সাভারের সিআরপি থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন।  আর চালক আরিফুল ইসলাম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগদানের পূর্বে অপসোনিন ফার্মায় চাকরি করতেন। সুতরাং তারা কিভাবে ভিসি স্যারের ব্যক্তিগত ফিজিওথেরাপিস্ট কিংবা চালক হলেন তা বোধগম্য নয়।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- টেন্ডার ছাড়াই ভিসি অফিস ডেকোরেশন বাবদ ৫৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। এ তথ্যাটি সঠিক নয়। এ কাজে প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ সরকারের পিপিআর-২০০৮ বিধান অনুসরণ করে প্রকৌশল দপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের প্রতিনিধি দল সরজমিনে পরিদর্শন করে এ কাজের আর্থিক বরাদ্দ দেন।

 

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ রয়েছে- গত ভর্তি পরীক্ষায় ৩ কোটি ২ লাখ টাকা আয়ের কোনো হিসাব নেই। প্রকৃতপক্ষে এটা ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ভর্তি পরীক্ষায় আয়। যা সাবেক উপাচার্যের আমলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় আয় হয় ২ কোটি ৮০ লাখ ৪১ হাজার টাকা। এবারের ভর্তি পরীক্ষার কোনো কর্মকান্ডে বর্তমান ভিসি জড়িত নন। সবকিছু করেছেন ডিনগণ এবং ভর্তি পরীক্ষার সময় গঠিত উপকমিটিসমূহ। আর ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজস্ব বাজেটের অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং নিয়মানুাযায়ী খরচ করা হয়। এ খরচের সব হিসাব বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব দপ্তরের কাছে জমা রয়েছে। এটি যাচাই না করেই প্রতিবেদনে উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে আয়-ব্যয়ের হিসেব নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিসি স্যারের সঙ্গে এর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব দপ্তরের সঙ্গেও এ বিষয়ে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভিসি ড. আনোয়ার হোসেন ১ কোটি টাকার উপরে খরচ করেছেন। কিন্তু তার কোনো হিসাব নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব দপ্তরে সব হিসাব সংরক্ষণ করা আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি সমাবর্তনে কোনো টাকাই খরচ করেননি। সমাবর্তন উপলক্ষে যে ১৯টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে তারাই বরাদ্দকৃত টাকা খরচ করেছেন। ভিসির অফিস গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আপ্যায়ন বাবদ মাত্র ২৫ হাজার টাকা খরচ করেছেন।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে- সমাবর্তনের শিক্ষক ও গ্রাজুয়েটদের খাবার ও উপহারের খরচ দিয়েছেন এমপি কাজি নাবিল হোসেন। প্যান্ডেলের খরচ বহন করেছে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান। প্রকৃতপক্ষে সমাবর্তনের সময় যশোর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী সমাবর্তন অনুষ্ঠান সফল করার জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন। সবার আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে সমাবর্তনের তহবিল গঠন করা হয়। সেখান থেকে ১৯টি উপকমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ করেছেন। এর সঙ্গে মাননীয় উপাচার্যের নূন্যতম কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

 

প্রতিবেদনে আরেক অংশ লেখা হয়েছে-  ভিসি বাংলোতে বসবাসের কোনো অর্থ পরিশোধ করেন না।  এ তথ্যাটি সঠিক নয়। তৈরির হওয়ার পর থেকে ভিসির বাংলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। বাংলো নির্মাণ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সুপারিশ মোতাবেক বাংলোটি সম্পূর্ণ করার জন্য ইউজিসির কাছে আর্থিক বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। তারপরেও বিশ্ববিদ্যালয় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে বাংলোতে ভিসি মহোদয়ের থাকার জন্য একটি কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তিনি রিজেন্ট কর্তৃক ধার্যকৃত নির্ধারিত ভাড়া তিনি নিয়মিত পরিশোধ করে আসছেন। ফলে এ তথ্যাটি সর্বৈব মিথ্যা।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে-ভিসি আনোয়ার হোসেনের পিএস কামরুল বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ স্বারক লিপি পেষ করে বিচার দাবি করে। ভিসি মহোদয়ের পিএস এ টি এম কামরুল হাসান কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কি না এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে কোনো তথ্য নেই। তিনি কখনোই মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কোনো কটূক্তি করেছেন কি না তার প্রমাণ নেই। তার বিচারের দাবিতে যবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর কখনোই স্মারকলিপি প্রদান করেনি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। শুধুমাত্র ভিসির পিএস হওয়ার কারণে তাঁর নামে এই প্রতিবেদনে এসব মনগড়া অভিযোগ করা হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-… ভিসি আনোয়ার হোসেন পছন্দের প্রার্থীকে সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য কখনোই লিখিত পরীক্ষা নেন না। সহযোগী অধ্যাপক পদে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিত পরীক্ষা হওয়ার রেওয়াজ নেই। কোনো খোঁজ না নিয়ে প্রতিবেদনে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে. . . .সহকারি রেজিষ্টার জামায়াত পন্থি এমদাদুল হক শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে শিবিরের ক্যাডার ছিলেন। বর্তমানে তাকে ডেপুটি রেজিষ্টার হিসেবে পদায়ন করার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার আগেই তাকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পূর্বের ভিসির থাকাকালে এমদাদুল হকের বিরুদ্ধে ৭০ লাখ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। প্রকৃতপক্ষে এমদাদুল হক পূর্বের ভিসির আমলে নিয়োগ পেয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই  কিংবা কেউ কখনো করেনি। আর তাঁকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে অদ্যবধি নিয়োগ দেওয়া হয়নি। সুতরাং একজন মানুষের চরিত্রহননের অংশ হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- প্রশাসনিক পদে না থাকা সত্ত্বেও অনেক সিনিয়র শিক্ষককে পাশ কাটিয়ে ভিসি ড. আনোয়ার হোসেন তার ছাত্র ইকবাল কবির জাহিদকে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান, ডিন, প্রভোস্টসহ বিভিন্ন সময়ে গঠিত কমিটির প্রধান করা হয়।  মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে কোনো সিনিয়র শিক্ষক না থাকায় ড. মোঃ ইকবাল কবীর জাহিদ অত্র বিভাগের চেয়ারম্যান। আর তিনি ২০১৬ সালে ডিনের দায়িত্ব পান। মেয়াদ শেষ হওয়ার এখন আর তিনি ডিনের দায়িত্বে নেই। আর প্রভোস্টের দায়িত্ব পান ২০১৫ সালে। বর্তমানে ভিসির আমলে তিনি নতুন করে কোনো দায়িত্ব পাননি।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে-…প্রভোস্ট জাহিদ বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় হলের সাধারণ ছাত্রদের ল্যাপটপ, মোবাইল ও নগদ টাকা পয়সাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য জিনিসপত্র লুট করান বলেও অভিযোগ রয়েছে। আর এসব করেন তিনি ড. আনোয়ার হোসেনের নির্দেশে। আবার লুটপাটকারীদের নিরাপদে হল ত্যাগে সাহায্য করেন প্রভোস্ট। প্রকৃতপক্ষে গত ৫ অক্টোবর, ২০১৭ সালের ওই ঘটনাটি ছিল ছাত্রলীগের দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। যা ওই সময়ে পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ও ওই ঘটনায় জড়িত সাত ছাত্রকে বহিষ্কার করেছে। এখানে ভিসি বা প্রভোস্ট ইকবাল কবীর জাহিদের কোনো হাত নেই। আর ঘটনার সময় ভিসি ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন ইউজিসি আয়োজিত বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির একটি সভায় যোগদানের জন্য বগুড়াতে এবং প্রভোস্ট ড. মোঃ ইকবাল কবীর জাহিদ ছুটিতে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ফলে এ তথ্যরও কোনো ভিত্তি নেই।

 

প্রতিবেদনে পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমানের পদোন্নতি বা নিয়োগ বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অথচ তাঁর পদোন্নতি বা নিয়োগ কোনোটিই এ ভিসির আমলে হয়নি। সুতরাং ড. মাহফুজকে নিয়ে যে তথ্যটি লেখা হয়েছে এটাও মিথ্যা তথ্য। ঢাকার রেস্ট হাউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মহোদয় কখনোই ব্যবহার করেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর বড় হওয়ায় বড় রেস্ট হাউজ ভাড়া করা হয়েছে। তারপরেও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় এটি অনেক ছোট রেস্ট হাউজ। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী তৌহিদ এবং সাকিবকে নিয়ে যে তথ্যাটি লেখা হয়েছে, তা আংশিক সত্য। তবে প্রতিবেদনে সেটাকে অতিরঞ্জন করে লেখা হয়েছে।

 

প্রদিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে-….এ বিষয়ে জানতে চেয়ে ভিসি আনোয়ার হোসেনের মোবাইলে ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সত্য হলো মাননীয় উপাচার্যের সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হয়েছে এবং সেই কথার রেকর্ডও সংরক্ষণ করা আছে। কিন্তু প্রতিবেদনে ভিসি মহোদয় কিংবা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে কারোর সঙ্গেই কথা বলা হয়নি। ফলে এটা প্রতিয়মান হয় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে একদল ষড়যন্ত্রকারীদের ফাঁদে পা দিয়ে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে।

 

 

ধন্যবাদান্তে,

(প্রকৌশলী মোঃ আহসান হাবীব)

রেজিস্ট্রার

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

যশোর-৭৪০৮।