যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে উৎসবে মেতে উঠেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বিত গ্রাজুয়েটগণ। ছবি: জনসংযোগ শাখা, রেজিস্ট্রার দপ্তর

 

যবিপ্রবির সমাবর্তন, উৎসবে মেতেছেন গর্বিত গ্রাজুয়েটরা

 

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দিতে যশোর বিমানবন্দর এসে পৌঁছেছেন রসায়ন শাস্ত্রে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. রবার্ট হিউবার। ছবি: জনসংযোগ

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘৩য় সমাবর্তন-২০১৮’ আগামীকাল বুধবার। বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু একাডেমিক ভবন সংলগ্ন মাঠে বেলা আড়াইটা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবর্তন অনুষ্ঠান শুরু হবে। ইতিমধ্যে সমাবর্তনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সমাবর্তনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে সাজানো হয়েছে নান্দনিক সাজে। উৎসবে মেতে উঠেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বিত গ্রাজুয়েটবৃন্দ।

সমাবর্তনের মধ্যমণি মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মোঃ আবদুল হামিদ। আর সমাবর্তনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ জার্মানির নাগরিক রসায়নশাস্ত্রে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. রবার্ট হিউবার। জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের ইমেরিটাস পরিচালক হিউবার ১৯৮৮ সালে গাছের সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া আবিষ্কার করে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এমন জগৎখ্যাত বিজ্ঞানীর আগমনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আনন্দে উদ্বেলিত। সমাবর্তনে যোগ দিতে ইতিমধ্যে তিনি আজ মঙ্গলবার দুপুরে যশোর এসে পৌঁছেছেন। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন। ৩য় সমাবর্তনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান।

সমাবর্তন আনুষ্ঠানিকভাবে বেলা আড়াইটার সময় শুরু হলেও গ্রাজুয়েট এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ বেলা ১১টা থেকেই অনুষ্ঠালস্থলে আসনগ্রহণ করতে পারবেন। আসনগ্রহণের শেষ সময় বেলা দেড়টা। মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা এবং অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতিথির আসনগ্রহণের পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে আব্দুলপুরে নির্মিত অস্থায়ী হেলিপ্যাডে অবতরণ করবেন। সেখানে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এরপরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী গাড়িবহর ক্যাম্পাসে নিয়ে আসবেন। এরপরে শুরু হবে সমাবর্তনের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘৩য় সমাবর্তন ২০১৮’-এ ৫৭০ জন গ্রাজুয়েট রেজিস্ট্রেশন করেছেন। পরীক্ষায় অসাধারণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখার জন্য সমাবর্তনে আটজন গ্রাজুয়েটকে চ্যান্সেলর স্বর্ণ পদক পাচ্ছেন। স্বর্ণপদক বিজয়ীরা হলেন- ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ শাহাবুদ্দিন; পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মোঃ আল আমিন; পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের নাজিয়া নওশাদ লিনা এবং মোঃ আব্দুল্লাহ আল-মামুন; শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের মোঃ রবিউল ইসলাম এবং ফাতেমা তুজ জোহরা (মুক্তা); ফিসারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের অনুশ্রী বিশ্বাস এবং শাম্মী আক্তার। এ ছাড়া ভাইস চ্যান্সেলর পদক পেয়েছেন পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মোঃ অলিউর রহমান, অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের মোঃ সাজেদুর রহমান ও সুমন পাল, ফার্মেসি বিভাগের নওরিন ফেরদৌস এবং জিন প্রকৌশল ও জীব প্রযুক্তি বিভাগের আলিমুদ্দিনা আশরাফী। এ ছাড়া বিভিন্ন বিভাগের ৫৬ জন শিক্ষার্থীকে ডিন্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য মেড্ল, ক্রেস্ট এবং অন্যান্য উপহার সামগ্রী তৈরির কাজও শেষ হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণ উপ-কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রাজুয়েটদের সঙ্গে আসবেন ৪৬৮ জন অভিভাবক। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, কর্মকর্তাসহ ৫০৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ‘৩য় সমাবর্তন-২০১৮’ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ১৯টি কমিটি ও উপ-কমিটি তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত সূচারুভাবে পালন করছে। মূল সভা মঞ্চও প্রস্তুত করা হয়েছে।

সমাবর্তনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), বাংলাদেশ পুলিশ, যশোর; র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব-৬), ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিএসবি, আনসারসহ সব বাহিনী তৎপর রয়েছে।

সমাবর্তনের প্রস্তুতির বিষয়ে উল্লেখ করে ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, বিভিন্ন প্রকারের দেশি-বিদেশি ফুলে পুরো ক্যাম্পাস সাজানো হয়েছে। আলোক সজ্জাসহ ক্যাম্পাসের সব ভবনের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজও চলছে। যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং চুড়ামনকাটি থেকে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক পর্যন্ত সড়ক বর্ণিল ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হচ্ছে। সমাবর্তন উপলক্ষে চুড়ামনকাটি থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত স্বাধীনতা সড়কও মেরামত করা হয়েছে।

 

বার্তা প্রেরক

মো: আব্দুর রশিদ

জনসংযোগ কর্মকর্তা

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,

যশোর-৭৪০৮।