‘৩য় সমাবর্তন-২০১৮’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাননীয় উপাচার্য ড. মোঃ আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য

 

মাননীয় উপাচার্য ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। বক্তব্যের শুরুতে আমি স্মরণ করছি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে নিহত বঙ্গমাতাসহ সকল শহীদকে। আরও স্মরণকরছি, মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর শহীদকে। এই ভাষার মাসে আরও স্মরণকরছি, ভাষা শহীদদেরকে যাঁরা আমাদের স্বাধিকারের স্বপ্ন দেখার সাহস দেখিয়েছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সকল বীর শহীদকে স্মরণ করছি।

 

প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,

১১ বছর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কোনো উল্লেখযোগ্য সময়ই নয়। কিন্তু এ স্বল্প সময়ের পথ পরিক্রমায় তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারাটা যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি বড় অর্জন। আমি গত ২০ মে ২০১৭ খ্রি. তারিখে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করি। সে সম্মেলনে আপনাদেরকে কথা দিয়েছিলাম যে, এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বের কাছে একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করব। সে প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে এবারের সমাবর্তনে একজন নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানীকে আমন্ত্রণের পরিকল্পনা করা হয় এবং আমরা সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে চলেছি।

 

প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,

অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাতে চাই, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ‘৩য় সমাবর্তন-২০১৮’ আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি, বুধবার বেলা আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার জন্য সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় চ্যান্সেলর জনাব মোঃ আবদুল হামিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান। এবারের সমাবর্তনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে এই প্রথম এশিয়া মহাদেশের বাইরের কোনো নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছেন। তিনি হলেন, জার্মান নাগরিক, ১৯৮৮ সালে রসায়ন শাস্ত্রে নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. রবার্ট হিউবার। তিনি ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর বায়োকেমিস্ট্রি’র ইমেরিটাস ডাইরেক্টর। আপনারা নিশ্চয় জানেন, তিনিই প্রথম গাছের সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া আবিষ্কার করে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এমন জগৎখ্যাত বিজ্ঞানীর আগমনে সারা দেশে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে; একজন নোবেল বিজয়ীর সান্নিধ্য পেয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটগণ আগামীর বাংলাদেশ গঠনে অনুপ্রাণিত হবেন বলে আমার বিশ্বাস।

 

সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলছি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘৩য় সমাবর্তন ২০১৮’-এ ৫৭০ জন গ্রাজুয়েট রেজিস্ট্রেশন করেছেন এবং ৪৬৬ জন অভিভাবক গ্রাজুয়েটদের সঙ্গে আসবেন। এ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, কর্মকর্তাসহ ৪৮৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ‘৩য় সমাবর্তন-২০১৮’ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ১৯টি কমিটি ও উপ-কমিটি তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত সূচারুভাবে পালন করছে। পরীক্ষায় অসাধারণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখার জন্য এবারের সমাবর্তনে আটজন গ্রাজুয়েটকে চ্যান্সেলর স্বর্ণ পদক, পাঁচজন শিক্ষার্থীকে ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড এবং ৫৬ জন শিক্ষার্থীকে ডিন্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য মেড্ ল, ক্রেস্ট এবং অন্যান্য উপহার সামগ্রী তৈরীর কাজও সুসম্পন্ন হয়েছে।

বিভিন্ন প্রকারের দেশি-বিদেশি ফুলে পুরো ক্যাম্পাস সাজানো হয়েছে। আলোক সজ্জাসহ ক্যাম্পাসের সব ভবনের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজও চলছে। যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং চুড়ামনকাটি থেকে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক পর্যন্ত সড়ক বর্ণিল ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হচ্ছে। সমাবর্তন উপলক্ষে চুড়ামনকাটি থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত স্বাধীনতা সড়কও মেরামত করা হয়েছে। এ জন্য ‘যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগ’কে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোও কার্পেটিং করা হয়েছে। মোটকথা, একটি বর্ণিল, মনোজ্ঞ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তুত। এ সমাবর্তনকে সফল করতে যে সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী নিরলস পরিশ্রম করছেন এবং যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাঁদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

এ সমাবর্তন অনুষ্ঠানকে সফল করার জন্য ইতিবাচক প্রচারণাসহ আপনাদের কাছ থেকে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। এছাড়াও, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা ইতিবাচক পদক্ষেপ, অগ্রগতি ও অর্জন সম্পর্কে দেশবাসীকে অবহিত করণের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ব্যাপারে আপনারা আরও জোরালো ভূমিকা রাখবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। আপনাদের সবাইকে অশেষ ধন্যবাদ।

 

 

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চিরজীবী হোক