৭ মার্চের ভাষণ ছিল বঙ্গবন্ধুর আত্মার নিংড়ানো ভাষা: অধ্যাপক ড. আনোয়ার

 

 

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ছিল তাঁর আত্মার নিংড়ানো ভাষা। যদি তিনি ভাষণটি লিখিতভাবে দিতেন, তাহলে ভাষণটি এতো হৃদয় স্পর্শী হতো কি না এ বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। বঙ্গবন্ধু এ দেশের মানুষকে আত্মার সঙ্গে ধারণ করেছেন বলেই এমন ভাষণ দিতে পেরেিেছলেন।
আজ শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যালারিতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক ‘বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য দলিল’ হিসেবে স্বীকৃতি এবং ‘মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড রেজিস্ট্রার’ এ অন্তর্ভুক্ত হওয়া উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন এসব কথা বলেন।
এর আগে যশোর শহর ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা। শোভাযাত্রার কর্মসূচিতে সকলে ব্যান্ড বাজিয়ে, প্ল্যাকার্ড এবং বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চে ১৮ মিনিট বক্তৃতা দেওয়ার জন্য ২৩ বছর অপেক্ষা করেছেন, ১৪ বছর জেল খেটেছেন। এতো ত্যাগ এবং সংগ্রামের অভিজ্ঞতার কারণেই তিনি বাঙালিকে মুক্তির বার্তা দিতে পেরেছিলেন। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে ‘মুক্তি’, ‘স্বাধীনতা’ এবং ‘মুখ দেখাদেখি হবে না’ এই তিনটি শব্দ উচ্চারণ করেই মূলত তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দেন।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ‘বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য দলিল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানান।
সভায় সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সেক্টর কমান্ডার ফোরাম, যশোরের সাবেক সভাপতি এ কে এম খয়রাত হোসেন। তিনি বলেন, ৭ মার্চের কর্মসূচিতে কোনো সভাপতি ছিলেন না। কোনো উপস্থাপক ছিলেন না। রাজনীতির কবি এলেন, বক্তব্য দিলেন। বঙ্গবন্ধু যদি সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা দিতেন, তাহলে তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হতেন। তখন জনগণের অনেক কষ্ট হতো। বঙ্গবন্ধু কখনোই জনগণকে জিম্মি করে কিছু করতে চাননি। দীর্ঘ বক্তৃতায় এ কে এম খয়রাত হোসেন বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ, মুক্তিযুদ্ধকে জীবন্তভাবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যশোর জেলার ডেপুটি কমান্ডার প্রকৌশলী মো: আবুল হোসেন, আফজাল হোসেন দুদুল, যবিপ্রবির স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো: নাসিম রেজা, যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুনিবুর রহমান, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক, কর্মচারী সমিতির নেতা আরশাদ আলী, শেখ হাসিনা ছাত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়রা আজমিরা এরিন, ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল আলীম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শ দপ্তরের পরিচালক ড. মো: মীর মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা নাসরীন এবং এগ্রো প্রোডাক্ট প্রসেসিং অ্যান্ড টেকনোলজির প্রভাষক এস এম সামিউল আলম।

ক্যাপশন: বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক ‘বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য দলিল’ হিসেবে স্বীকৃতি উপলক্ষে যশোর শহর ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আনন্দ শোভাযাত্রা করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: জনসংযোগ শাখা, যবিপ্রবি

বার্তা প্রেরক

মো: আব্দুর রশিদ
জনসংযোগ কর্মকর্তা

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,
যশোর-৭৪০৮।